

নিজস্ব প্রতিবেদন
গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার কামরাঙ্গা চালা এলাকায় বেতন উত্তোলনের পর এক ব্যক্তিকে অপহরণ, মারধর, ছিনতাই ও পরবর্তীতে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
ভুক্তভোগী মোঃ সাইফুল ইসলাম অভিযোগ করেছেন, গত ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে অফিস শেষে বাসায় ফেরার পর পরিকল্পিতভাবে তাকে তার ভাড়া বাসা থেকে ডেকে অটোযানে তুলে নেওয়া হয়। পরে তার হাত-পা ও চোখ বেঁধে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তার কাছে থাকা ১৩ হাজার টাকা জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ঘটনার পরদিন ৬ ফেব্রুয়ারি অভিযুক্তরা পুনরায় তার বাসায় গিয়ে ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। টাকা না দিলে গুম কিংবা হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। প্রাণভয়ে তিনি ৫ হাজার টাকা দিতে বাধ্য হন বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও অনুসন্ধানে জানা গেছে, ঘটনাটি ছিল পরিকল্পিত ও সংঘবদ্ধ। এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, পান্না নামের এক ব্যক্তির নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সক্রিয়। তার বিরুদ্ধে পূর্বেও নানা অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের। কখনও কখনও তিনি নিজেকে একটি রাজনৈতিক দলের নেতা হিসেবে পরিচয় দিয়ে প্রভাব বিস্তার করেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
অনুসন্ধানে আরও একটি নাম সামনে আসে—আদনান হাসান স্বাধীন। তিনি স্থানীয় একটি কলেজ শাখা ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং ১ম ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে দায়িত্বে আছেন বলে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে নেপথ্যে থেকে তিনি সংশ্লিষ্টদের উৎসাহ ও দিকনির্দেশনা দেন। তবে এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগে বলা হয়েছে, সৌরভ, শান্ত হাসান ও রাসেল সরাসরি হামলায় অংশ নেন। তারা ভুক্তভোগীকে আটক, বেঁধে রাখা ও মারধরে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া মোঃ সজিবের বিরুদ্ধে চক্রটির সদস্যদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। প্রয়োজন অনুযায়ী নিরাপদ আশ্রয় ও যোগাযোগ রক্ষার দায়িত্বে ছিলেন বলেও দাবি করা হয়েছে।
ড্রাইভার মোঃ শফির নামও অভিযোগে উঠে এসেছে। স্থানীয়দের দাবি, তিনি একটি কিশোর গ্যাং পরিচালনা করেন এবং বিভিন্ন অপকর্মে তাদের ব্যবহার করেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।
ভুক্তভোগীর ভাষ্যমতে, হামলাকারীরা তার চোখ ও হাত-পা কাপড় দিয়ে বেঁধে কিল-ঘুষি ও লাথি মারেন। এতে শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফোলা জখম হয়। একপর্যায়ে তারা টাকা ছিনিয়ে নিয়ে চলে যায়।
কালিয়াকৈর থানা অফিসার ইনচার্জ জানান, লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্তাধীন। তদন্ত শেষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
এ ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
নিজস্ব প্রতিবেদন