Dhaka 12:29 pm, Saturday, 19 September 2026
News Title :
বিডিআরএমজিপি এফএনএফ ফাউন্ডেশনের লিডারশিপ লার্নিং সামিট ও গেট টুগেদার। রাজধানীর ৭ স্থানে ১৪ ককটেল বিস্ফোরণ, থানার সামনে বাসে আগুন। নারীসহ অবরুদ্ধ সাবেক ওসি মাহবুবকে উদ্ধার: দরজা ভেঙে বের করল পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস। প্রায় ২০ বছর ধরে সরকারি জায়গা বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহারের অভিযোগ। বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে ১২ বছরের শিক্ষার্থী নিখোঁজ। কাশিরাম বেলপুকুরে সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে আলোচনায় শেফালী বেগম। পীরগঞ্জে নজরুল বর্ষে পূরস্কার বিতরণ।  ফুলবাড়ীতে পতিত ওয়াপদা বাঁধে লাউয়ের সবুজ বিপ্লব, স্বাবলম্বী ছয় তরু। সাংবাদিক জনি ফারুককে হেয়প্রতিপন্ন করতে ভিত্তিহীন ভুয়া সংবাদপত্রের কাটিং বানিয়ে অপপ্রচার, তীব্র প্রতিবাদ। ঠাকূরগাঁওয়ে ৭১ সারের ডিলার লাইসেন্সের বিপরীতে ৮৮৯টি আবেদন। 

গাজীপুরে সাংবাদিক নির্যাতন : অপহরণ, মারধরে গ্রেফতার পাঁচজন অভিযুক্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক : গাজীপুর মহানগরের গাছা এলাকায় পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এক সাংবাদিক অপহরণ, নির্যাতন, মারধর, নগ্ন করে ভিডিও ধারণ এবং ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ন্যক্কারজনক ও উদ্বেগজনক ঘটনায় ইতোমধ্যে পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ, মানবাধিকারকর্মী এবং সচেতন নাগরিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

 

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী সাংবাদিক মোঃ জাকারিয়া শিকদার একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের গাজীপুর প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। গত ২৮ মে দুপুরে দায়িত্ব শেষে বোর্ডবাজার এলাকায় ফেরার পথে তিনি খবর পান যে গাছা থানার মালেকের বাড়ি বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন একটি পরিত্যক্ত চারতলা ভবনে অসামাজিক কার্যকলাপ চলছিল। সংবাদকর্মী হিসেবে তথ্য যাচাই ও সংবাদ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে তিনি ঘটনাস্থলে যান এবং গোপনে ভিডিও ধারণ শুরু করেন।

 

অভিযোগ অনুযায়ী, বিষয়টি টের পেয়ে সেখানে অবস্থানরত কয়েকজন ব্যক্তি তাকে জোরপূর্বক আটক করে ভবনের দ্বিতীয় তলায় নিয়ে যায়। এরপর সংঘবদ্ধভাবে তার ওপর হামলা চালানো হয়। তাকে বেধড়ক মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়। শুধু শারীরিক নির্যাতনই নয়, তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, ডিএসএলআর ক্যামেরা এবং নগদ অর্থও ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

সবচেয়ে উদ্বেগজনক অভিযোগ হলো, হামলাকারীরা সাংবাদিককে জোরপূর্বক উলঙ্গ করে কয়েকজন নারীকে পাশে বসিয়ে ছবি ও ভিডিও ধারণ করে। পরে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে তাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়। এমন কর্মকাণ্ডকে সাংবাদিক নেতারা শুধু একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপরাধ নয়, বরং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও পেশাগত নিরাপত্তার ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে দেখছেন।

 

গুরুতর আহত অবস্থায় সাংবাদিক জাকারিয়া শিকদার শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। পরবর্তীতে সহকর্মী সাংবাদিক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনা করে তিনি গাছা থানায় মামলা দায়ের করেন।

 

ঘটনার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, মামলাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে এবং পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তদন্তের স্বার্থে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

 

সাংবাদিক সংগঠনগুলোর নেতারা বলেছেন, সত্য তথ্য প্রকাশ এবং জনস্বার্থে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে যদি একজন সাংবাদিককে এমন ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হতে হয়, তাহলে তা পুরো গণমাধ্যম অঙ্গনের জন্য উদ্বেগজনক বার্তা। তারা দ্রুত তদন্ত শেষ করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

 

সচেতন মহলের মতে, এ ধরনের ঘটনা শুধু একটি অপরাধ নয়, এটি আইনের শাসন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং সংবাদপেশার নিরাপত্তার ওপর গুরুতর হুমকি। তাই অপরাধীদের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা সময়ের দাবি। এতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

বিডিআরএমজিপি এফএনএফ ফাউন্ডেশনের লিডারশিপ লার্নিং সামিট ও গেট টুগেদার।

গাজীপুরে সাংবাদিক নির্যাতন : অপহরণ, মারধরে গ্রেফতার পাঁচজন অভিযুক্ত

Update Time : 10:43:41 am, Sunday, 31 May 2026

নিজস্ব প্রতিবেদক : গাজীপুর মহানগরের গাছা এলাকায় পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এক সাংবাদিক অপহরণ, নির্যাতন, মারধর, নগ্ন করে ভিডিও ধারণ এবং ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ন্যক্কারজনক ও উদ্বেগজনক ঘটনায় ইতোমধ্যে পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ, মানবাধিকারকর্মী এবং সচেতন নাগরিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

 

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী সাংবাদিক মোঃ জাকারিয়া শিকদার একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের গাজীপুর প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। গত ২৮ মে দুপুরে দায়িত্ব শেষে বোর্ডবাজার এলাকায় ফেরার পথে তিনি খবর পান যে গাছা থানার মালেকের বাড়ি বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন একটি পরিত্যক্ত চারতলা ভবনে অসামাজিক কার্যকলাপ চলছিল। সংবাদকর্মী হিসেবে তথ্য যাচাই ও সংবাদ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে তিনি ঘটনাস্থলে যান এবং গোপনে ভিডিও ধারণ শুরু করেন।

 

অভিযোগ অনুযায়ী, বিষয়টি টের পেয়ে সেখানে অবস্থানরত কয়েকজন ব্যক্তি তাকে জোরপূর্বক আটক করে ভবনের দ্বিতীয় তলায় নিয়ে যায়। এরপর সংঘবদ্ধভাবে তার ওপর হামলা চালানো হয়। তাকে বেধড়ক মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়। শুধু শারীরিক নির্যাতনই নয়, তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, ডিএসএলআর ক্যামেরা এবং নগদ অর্থও ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

সবচেয়ে উদ্বেগজনক অভিযোগ হলো, হামলাকারীরা সাংবাদিককে জোরপূর্বক উলঙ্গ করে কয়েকজন নারীকে পাশে বসিয়ে ছবি ও ভিডিও ধারণ করে। পরে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে তাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়। এমন কর্মকাণ্ডকে সাংবাদিক নেতারা শুধু একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপরাধ নয়, বরং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও পেশাগত নিরাপত্তার ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে দেখছেন।

 

গুরুতর আহত অবস্থায় সাংবাদিক জাকারিয়া শিকদার শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। পরবর্তীতে সহকর্মী সাংবাদিক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনা করে তিনি গাছা থানায় মামলা দায়ের করেন।

 

ঘটনার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, মামলাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে এবং পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তদন্তের স্বার্থে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

 

সাংবাদিক সংগঠনগুলোর নেতারা বলেছেন, সত্য তথ্য প্রকাশ এবং জনস্বার্থে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে যদি একজন সাংবাদিককে এমন ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হতে হয়, তাহলে তা পুরো গণমাধ্যম অঙ্গনের জন্য উদ্বেগজনক বার্তা। তারা দ্রুত তদন্ত শেষ করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

 

সচেতন মহলের মতে, এ ধরনের ঘটনা শুধু একটি অপরাধ নয়, এটি আইনের শাসন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং সংবাদপেশার নিরাপত্তার ওপর গুরুতর হুমকি। তাই অপরাধীদের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা সময়ের দাবি। এতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।