

চন্দনাইশ (চট্টগ্রাম):সৈকত দাশ ইমন।।
প্রতিবছরের ন্যায় এ বছরও চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার বরমা ইউনিয়নে পৌষ সংক্রান্তি উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে দুই শত বছরের ঐতিহ্যবাহী শুক্লাম্বর দীঘির পুণ্য মেলা। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সুচিয়া বাইনজুরী গ্রামে আয়োজিত এ মেলাকে ঘিরে দেশ-বিদেশের হাজারো পুণ্যার্থীর সমাগম ঘটে।
মেলা উপলক্ষে শুক্লাম্বর দীঘি ও আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় বসে নানা ধরনের দোকান ও আয়োজন। আগের দিন বিকেল থেকেই পুণ্যার্থী, তীর্থযাত্রী, পূজারি ও ব্যবসায়ীরা মেলাস্থলে আসতে শুরু করেন। বুধবার সকাল থেকেই মেলাঙ্গনে উপচে পড়া মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা যায়।
পুণ্যার্থীরা আত্মশুদ্ধি, পাপমুক্তি ও মনোবাসনা পূরণের আশায় দীঘিতে স্নান করেন। কেউ মানত হিসেবে অশ্বত্থ গাছের নিচে কবুতর উড়িয়ে দেন, কেউ দীঘির জলে তরল দুধ ঢালেন। নবদম্পতি পূজা দাশ অশ্বত্থ গাছের ডালে সুতা বেঁধে প্রার্থনা করেন। রানীহাট থেকে নিয়তি দত্ত ও আশীষ চক্রবর্তী এবং বাঁশখালী থেকে নয়ন বিশ্বাসসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত ভক্তরা মেলায় অংশ নেন।
মেলায় নাগরদোলা, বেতের তৈরি টুকরি ও ঝুড়ি, চালুনি, কুলা, মোড়া, দা-বটি-ছোরা, যাঁতা, মাটির ঘটি-বাটি, শীতের সবজি, মানকচু, ইলিশ, দেশি পুকুরের মাছসহ নানা সামগ্রীর দোকান বসে। পাশাপাশি চটপটি, বিনি ধানের খই, যব ধানের খই, বাতাসা, নকুল দানা, গজা, নারকেলের চিড়া ও বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী খাবারের পসরা মেলায় বাড়তি আকর্ষণ সৃষ্টি করে।
জানা গেছে, মেলার ঐতিহ্য অনুসারে শুক্লাম্বর ভট্টাচার্য ত্রিপাঠির নামানুসারেই দীঘির নামকরণ করা হয়। প্রায় ৪০০ বছর আগে ভারতের নদীয়া অঞ্চলে জন্মগ্রহণ করা শুক্লাম্বর ভট্টাচার্য ত্রিপাঠি ৪০ বছর বয়সে সনাতন ধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে চন্দনাইশের বরমা এলাকায় আগমন করেন। সেখানে জমি ক্রয় করে শিবমন্দির নির্মাণসহ ধর্মপ্রচার ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ড শুরু করেন।
শ্রী শ্রী শুক্লাম্বর দীঘি উন্নয়ন কমিটির সিনিয়র সদস্য ডা. কাজল কান্তি বৈদ্য বলেন, “দক্ষিণ এশিয়ায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থান। শুধু সনাতন ধর্মাবলম্বী নয়, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহ বিভিন্ন ধর্মের মানুষও এখানে শ্রদ্ধা জানাতে আসেন। এ বছর পুণ্যার্থীদের উপস্থিতি অন্য বছরের তুলনায় অনেক বেশি।”
মেলা উপলক্ষে সার্বক্ষণিক সিসিটিভি নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ও চন্দনাইশ থানা পুলিশের সদস্যরা সার্বিক তত্ত্বাবধান ও সহযোগিতায় নিয়োজিত রয়েছেন।
সৈকত দাশ ইমন দক্ষিণ চট্টগ্রাম প্রতিনিধি