

নিজস্ব প্রতিবেদক : এস এ বাংলা নিউজ
গাজীপুরে মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে অনুসন্ধানে বৈষম্যের চিত্র উঠে এসেছে। একই জেলায়, একই অপরাধ সংঘটিত হলেও ভুক্তভোগীর পরিচয় অনুযায়ী তদন্ত ও উদ্ধারের গতি যে ভিন্ন—তা সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে স্পষ্ট।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, মুভি বাংলা টেলিভিশনের কালিয়াকৈর উপজেলা প্রতিনিধি ও জাতীয় দৈনিক ঘোষণা পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার সাংবাদিক আলমগীর হোসেনের মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে দীর্ঘদিন আগে। মামলা দায়ের হলেও আজ পর্যন্ত বাইক উদ্ধার হয়নি, নেই দৃশ্যমান অগ্রগতি। নিয়মিত মাঠপর্যায়ে সংবাদ সংগ্রহ ও লাইভ সম্প্রচারের সঙ্গে যুক্ত এই সাংবাদিক এখনো পেশাগত ও আর্থিক ক্ষতির মধ্যে রয়েছেন।
একই জেলার দীপ্ত টেলিভিশনের প্রতিনিধি জাহাঙ্গীর আলম এর বাইক দীর্ঘ দুই বছর হয়ে যাওয়ার পরও আজও উদ্ধার হয়নি। দৈনিক আমার সময় পত্রিকার প্রতিনিধি মহসিন মোল্লা এবং সময় টেলিভিশনের চিত্র সাংবাদিক জুনায়েদ রুবেলের মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের ঘটনাও বছরের পর বছর ধরে অনিষ্পন্ন। চার সাংবাদিকের একটি মোটরসাইকেলও এখনো উদ্ধার হয়নি।
এর বিপরীতে, সম্প্রতি এনসিপির এক সদস্যের মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করে। এই দ্রুততা প্রকাশ্যে আসতেই সাংবাদিক সমাজ ও সচেতন মহলে প্রশ্ন উঠেছে—একই জেলা, একই অপরাধ; তবে কেন এমন ভিন্নতা?
সাংবাদিকদের মতে, মোটরসাইকেল শুধু ব্যক্তিগত সম্পদ নয়; এটি তাদের পেশাগত কাজের প্রধান বাহন। ছিনতাইয়ের পর দীর্ঘদিন ধরে উদ্ধার না হওয়া সংবাদ সংগ্রহের স্বাধীনতা ও সাংবাদিক নিরাপত্তার বিষয়কেই প্রশ্নের মুখে ফেলছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বক্তব্যে, নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, “গাজীপুরে মোটরসাইকেল ছিনতাই–সংক্রান্ত প্রতিটি মামলাই গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। কিছু ঘটনায় সময়ের ব্যবধান, অপরাধীদের স্থান পরিবর্তন এবং তথ্যপ্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে উদ্ধার বিলম্বিত হচ্ছে। মুভি বাংলা টেলিভিশনের প্রতিনিধি সাংবাদিক আলমগীর হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের মামলাগুলোও সক্রিয় তদন্তাধীন রয়েছে।”
তবে বাস্তবতা হলো—একই জেলায়, একই ধরনের অপরাধে কোথাও ২৪ ঘণ্টায় সাফল্য, আবার কোথাও বছর পেরিয়েও শূন্যতা। প্রশ্ন থেকেই যায়, আইনের চোখে সবাই কি সত্যিই সমান? সাংবাদিক সমাজের প্রত্যাশা, পরিচয় বা প্রভাব নয়—ন্যায় ও সমতার ভিত্তিতেই অপরাধ দমন কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
নিজস্ব প্রতিবেদন, এস এ বাংলা নিউজ