Dhaka 1:43 am, Thursday, 4 June 2026
News Title :
ইসলামী ব্যাংক রক্ষায় রাঙামাটিতে গ্রাহকদের বিশাল মানববন্ধন: এমডি ওমর ফারুককে পুনর্বহাল ও এস আলমের বিচারের দাবি পাটগ্রাম বিএম কলেজের শিক্ষক নিয়োগের প্রতীবাদে সংবাদ সম্মেলন টুরিস্টদের রাতভর অপেক্ষা, যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা ও ক্ষোভ: প্রশ্নের মুখে কোনাবাড়ীর ‘চিল ট্যুরিজম ’ আত্মীয়ের সঙ্গে বিয়ে কি নিরাপদ? গবেষণায় উঠে এল নতুন তথ্য নবীগঞ্জে কথিত ডাকাতের বিরুদ্ধে ক্ষোভ, বসতঘরে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ ‎ ফুটবল মাঠ নিয়ে সংঘর্ষে উত্তপ্ত বানিয়াচং ‎ওসিসহ আহত অন্তত ৩০ শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করল জাতীয়তাবাদী রিকশা, ভ্যান ও অটো চালক দলের কেন্দ্রীয় কমিটি গাজীপুরে সাংবাদিক নির্যাতন : অপহরণ, মারধরে গ্রেফতার পাঁচজন অভিযুক্ত প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্যের অভিযোগ: এনসিপির সহযোগী সংগঠনের নেতাকে পুলিশে সোপর্দ জঙ্গল সলিমপুরে কারাগার স্থাপনের পরিকল্পনা, অপরাধ দমনে কঠোর বার্তা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

পাটগ্রামে ভুয়া মাদ্রাসা কার্যক্রম, প্রতারণা ও সন্ত্রাসী হামলার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

আব্দুস সামাদ, লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধি

 

লালমনিরহাটের পাটগ্রামে ভুয়া মাদ্রাসা কার্যক্রম, প্রতারণা ও সন্ত্রাসী হামলার অভিযোগে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (১৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টায় পাটগ্রাম উপজেলার জগতবেড় ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের আশোয়ারপাড়ায় এ সংবাদ সম্মেলন করেন আমিনুর রহমান নামে এক ব্যক্তি, যিনি নিজেকে সংশ্লিষ্ট একটি মাদ্রাসার জমিদাতা হিসেবে পরিচয় দেন।

 

লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, তিনি পাটগ্রাম উপজেলার জগতবেড় ইউনিয়নের জগতবেড় দাখিল মাদ্রাসার একজন ভুক্তভোগী জমিদাতা সদস্য। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০০৫ সালে স্থানীয় শিশু-কিশোরদের ধর্মীয় শিক্ষা বিস্তারের লক্ষ্যে মোঃ আমিনুর রহমান (২৯ শতক), হাজেরা খাতুন (২৯ শতক), কাজী আনোয়ার হোসেন (২৫ শতক) ও সফিকুল ইসলাম (১৯ শতক)—এই চারজন মোট ১০২ শতক জমি দান করে একটি মাদ্রাসা স্থাপনের উদ্যোগ নেন।

 

তিনি বলেন, উদ্যোক্তা কমিটি গঠন করে টিনের একটি ঘর নির্মাণ করা হয় এবং ২০০৫ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত শ্রেণিপাঠদান কার্যক্রম পরিচালিত হয়। তবে মাদ্রাসা অধিদপ্তর ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে একাধিকবার আবেদন করেও পাঠদানের অনুমোদন না পাওয়ায় ২০০৮ সালে মাদ্রাসাটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এরপর প্রায় ১৭ বছর ধরে সেখানে কোনো শিক্ষাকার্যক্রম চলেনি।

 

বক্তব্যে আরও বলা হয়, মাদ্রাসাটি বন্ধ থাকার সময় তিনি নিজের দানকৃত জমিতে নিয়মিত চাষাবাদ করে আসছিলেন। তিনি ও তার মা মোট ৫৮ শতক জমি দান করেছিলেন। তার মায়ের দানকৃত ২৯ শতক জমির সমপরিমাণ জমি তিনি পরবর্তীতে অন্যত্র মায়ের নামে লিখে দেন বলেও দাবি করেন।

 

আমিনুর রহমানের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালে রাতের আঁধারে কিছু ব্যক্তি তিনজন জমিদাতাকে বাদ দিয়ে অবৈধভাবে মাদ্রাসার সাইনবোর্ড স্থাপন করে নতুন করে কার্যক্রম শুরুর চেষ্টা করেন। তার দাবি, এ সময় চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে এবং ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অনুমতির আবেদন করা হয়েছে।

 

তিনি আরও অভিযোগ করেন, এসব অনিয়মের প্রতিবাদ করায় গত ১২ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে তার বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। পরবর্তীতে ১৪ ডিসেম্বর তার দানকৃত জমির ফসল নষ্ট করা হয়, এতে তার বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন। এছাড়া গত ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে জোরপূর্বক গাছ কেটে নেওয়া ও সেখানে ঘর নির্মাণের ঘটনাও ঘটে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

 

সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, এসব ঘটনার পর ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে পাটগ্রাম থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। তবে জিডির পরদিন তাকে থানায় ডেকে কয়েক ঘণ্টা আটক রাখা হয় বলে অভিযোগ করেন, যা তিনি হয়রানিমূলক ও সম্মানহানিকর বলে উল্লেখ করেন।

 

সংবাদ সম্মেলনে তিনি অবিলম্বে কথিত ভুয়া মাদ্রাসা কার্যক্রম বন্ধ করা, অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ভুয়া কাগজপত্র যাচাই, প্রতারণা ও হামলার ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। একই সঙ্গে গণমাধ্যমের মাধ্যমে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এবং সাধারণ মানুষকে ভুয়া মাদ্রাসা ও চাকরির নামে প্রতারণার বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

ইসলামী ব্যাংক রক্ষায় রাঙামাটিতে গ্রাহকদের বিশাল মানববন্ধন: এমডি ওমর ফারুককে পুনর্বহাল ও এস আলমের বিচারের দাবি

পাটগ্রামে ভুয়া মাদ্রাসা কার্যক্রম, প্রতারণা ও সন্ত্রাসী হামলার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

Update Time : 11:49:46 pm, Sunday, 18 January 2026

আব্দুস সামাদ, লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধি

 

লালমনিরহাটের পাটগ্রামে ভুয়া মাদ্রাসা কার্যক্রম, প্রতারণা ও সন্ত্রাসী হামলার অভিযোগে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (১৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টায় পাটগ্রাম উপজেলার জগতবেড় ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের আশোয়ারপাড়ায় এ সংবাদ সম্মেলন করেন আমিনুর রহমান নামে এক ব্যক্তি, যিনি নিজেকে সংশ্লিষ্ট একটি মাদ্রাসার জমিদাতা হিসেবে পরিচয় দেন।

 

লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, তিনি পাটগ্রাম উপজেলার জগতবেড় ইউনিয়নের জগতবেড় দাখিল মাদ্রাসার একজন ভুক্তভোগী জমিদাতা সদস্য। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০০৫ সালে স্থানীয় শিশু-কিশোরদের ধর্মীয় শিক্ষা বিস্তারের লক্ষ্যে মোঃ আমিনুর রহমান (২৯ শতক), হাজেরা খাতুন (২৯ শতক), কাজী আনোয়ার হোসেন (২৫ শতক) ও সফিকুল ইসলাম (১৯ শতক)—এই চারজন মোট ১০২ শতক জমি দান করে একটি মাদ্রাসা স্থাপনের উদ্যোগ নেন।

 

তিনি বলেন, উদ্যোক্তা কমিটি গঠন করে টিনের একটি ঘর নির্মাণ করা হয় এবং ২০০৫ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত শ্রেণিপাঠদান কার্যক্রম পরিচালিত হয়। তবে মাদ্রাসা অধিদপ্তর ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে একাধিকবার আবেদন করেও পাঠদানের অনুমোদন না পাওয়ায় ২০০৮ সালে মাদ্রাসাটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এরপর প্রায় ১৭ বছর ধরে সেখানে কোনো শিক্ষাকার্যক্রম চলেনি।

 

বক্তব্যে আরও বলা হয়, মাদ্রাসাটি বন্ধ থাকার সময় তিনি নিজের দানকৃত জমিতে নিয়মিত চাষাবাদ করে আসছিলেন। তিনি ও তার মা মোট ৫৮ শতক জমি দান করেছিলেন। তার মায়ের দানকৃত ২৯ শতক জমির সমপরিমাণ জমি তিনি পরবর্তীতে অন্যত্র মায়ের নামে লিখে দেন বলেও দাবি করেন।

 

আমিনুর রহমানের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালে রাতের আঁধারে কিছু ব্যক্তি তিনজন জমিদাতাকে বাদ দিয়ে অবৈধভাবে মাদ্রাসার সাইনবোর্ড স্থাপন করে নতুন করে কার্যক্রম শুরুর চেষ্টা করেন। তার দাবি, এ সময় চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে এবং ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অনুমতির আবেদন করা হয়েছে।

 

তিনি আরও অভিযোগ করেন, এসব অনিয়মের প্রতিবাদ করায় গত ১২ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে তার বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। পরবর্তীতে ১৪ ডিসেম্বর তার দানকৃত জমির ফসল নষ্ট করা হয়, এতে তার বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন। এছাড়া গত ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে জোরপূর্বক গাছ কেটে নেওয়া ও সেখানে ঘর নির্মাণের ঘটনাও ঘটে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

 

সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, এসব ঘটনার পর ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে পাটগ্রাম থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। তবে জিডির পরদিন তাকে থানায় ডেকে কয়েক ঘণ্টা আটক রাখা হয় বলে অভিযোগ করেন, যা তিনি হয়রানিমূলক ও সম্মানহানিকর বলে উল্লেখ করেন।

 

সংবাদ সম্মেলনে তিনি অবিলম্বে কথিত ভুয়া মাদ্রাসা কার্যক্রম বন্ধ করা, অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ভুয়া কাগজপত্র যাচাই, প্রতারণা ও হামলার ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। একই সঙ্গে গণমাধ্যমের মাধ্যমে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এবং সাধারণ মানুষকে ভুয়া মাদ্রাসা ও চাকরির নামে প্রতারণার বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।