Dhaka 8:41 pm, Tuesday, 17 February 2026
News Title :
ঠাকূরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে “বাংলাদেশ পল্লী ফেডারেশন উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণ। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের শারীরিক অবস্থার অবনতি, হাসপাতালে নেওয়ার সিদ্ধান্ত দৈনিক ঘোষণা’র মাহে রামাদ্বান ক্যালেন্ডারের উদ্বোধন করলেন এমপি হাজী মুজিব কালিয়াকৈরে বেতন উত্তোলনের পর সাইফুল ইসলামের ওপর ছিনতাই ও প্রাণনাশের হুমকি ‎নির্বিঘ্নে ভোটের চ্যালেঞ্জ জিএমপি কমিশনারের ‎ ‎হবিগঞ্জ-১ আসনে ত্রিমুখী লড়াই, মাঠে গরম ভোটের হাওয়া গান, নাচ আর প্রতিযোগিতায় ভরে উঠল বিদ্যালয় মাঠ—গ্লোরিয়াস স্কুলের ব্যতিক্রমী আয়োজন কোনাবাড়ী থানায় আস্থার প্রতীক ওসি খন্দকার জালাল উদ্দীন মাহমুদ সুনামগঞ্জ-জেলা: সুনামগঞ্জ সদর ও বিশ্বম্ভরপুর৪ আসনে ধানের শীষের পক্ষে কোরবান নগরে গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ। দিনাজপুর-২ আসনে ধানের শীষের নির্বাচনী প্রচার পরিচালনায় তাঁতী দলের সমন্বয় উপ-কমিটি গঠন

‎হবিগঞ্জ-১ আসনে ত্রিমুখী লড়াই, মাঠে গরম ভোটের হাওয়া

‎স্বপন রবি দাশ, হবিগঞ্জ প্রতিনিধি।।

‎হবিগঞ্জ-১ আসন (নবীগঞ্জ ও বাহুবল) ঘিরে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি হয়েছে।

‎দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এ আসনে বিএনপি, ১১ দলীয় জোট ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা আধিপত্য প্রতিষ্ঠায় মরিয়া হয়ে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। প্রচারণা ও গণসংযোগে ইতিমধ্যে জমে উঠেছে ভোটের মাঠ।

‎এই আসনের রাজনৈতিক ইতিহাসে নানা পালাবদল ঘটেছে। ১৯৮৮ সালে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের প্রার্থী আব্দুল মোছাব্বির এবং ১৯৯১ সালে জাতীয় পার্টির খলিলুর রহমান চৌধুরী রফি জয়ী হন।

‎এরপর ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপির শেখ সুজাত মিয়া নির্বাচিত হলেও একই বছরের জুন, ২০০১ ও ২০০৮ সালের নির্বাচনে টানা জয় পান আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা দেওয়ান ফরিদ গাজী।

‎দেওয়ান ফরিদ গাজীর মৃত্যুর পর ২০১১ সালের উপনির্বাচনে বিএনপির শেখ সুজাত মিয়া পুনরায় জয়ী হন। পরে ২০১৪ সালে জাতীয় পার্টির এম. এ. মুনিম চৌধুরী, ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগের গাজী মোহাম্মদ শাহনেওয়াজ এবং সর্বশেষ ২০২৪ সালের নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

‎বর্তমানে আসনটি আওয়ামী লীগের প্রভাববলয়ে থাকলেও এবার সমান তৎপর বিএনপি, জোট ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর। বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মরহুম অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়ার ছেলে ড. রেজা কিবরিয়া, ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী খেলাফত মজলিসের মাওলানা সিরাজুল ইসলাম মিরপুরী এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ সুজাত মিয়া নির্বাচনী মাঠে সরব।

‎বিএনপির প্রার্থী ড. রেজা কিবরিয়া বলেন, ‘বিএনপি আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে জনগণের সেবা করার জন্য। ধানের শীষে ভোট দিয়ে আমার বাবার অসমাপ্ত কাজগুলো শেষ করার সুযোগ দিন।’

‎১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মাওলানা সিরাজুল ইসলাম মিরপুরী বলেন, ‘মানুষ পরিবর্তন চায়, ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র চায়। জনগণ আমাকে রিকশা মার্কায় নির্বাচিত করলে উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা বজায় রাখব।’

‎অন্যদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ সুজাত মিয়া বলেন, ‘দীর্ঘদিন নবীগঞ্জ–বাহুবলের মানুষের পাশে ছিলাম। দুঃসময়ে দলের কর্মীদের পাশে থেকেছি। ইনশাআল্লাহ, জনগণ আমাকে ঘোড়া মার্কায় নির্বাচিত করবেন।’

‎স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে উত্তাপ। তিন প্রার্থীর সক্রিয় উপস্থিতিতে হবিগঞ্জ-১ আসনে ত্রিমুখী লড়াই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

ঠাকূরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে “বাংলাদেশ পল্লী ফেডারেশন উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণ।

‎হবিগঞ্জ-১ আসনে ত্রিমুখী লড়াই, মাঠে গরম ভোটের হাওয়া

Update Time : 12:50:41 pm, Sunday, 8 February 2026

‎স্বপন রবি দাশ, হবিগঞ্জ প্রতিনিধি।।

‎হবিগঞ্জ-১ আসন (নবীগঞ্জ ও বাহুবল) ঘিরে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি হয়েছে।

‎দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এ আসনে বিএনপি, ১১ দলীয় জোট ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা আধিপত্য প্রতিষ্ঠায় মরিয়া হয়ে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। প্রচারণা ও গণসংযোগে ইতিমধ্যে জমে উঠেছে ভোটের মাঠ।

‎এই আসনের রাজনৈতিক ইতিহাসে নানা পালাবদল ঘটেছে। ১৯৮৮ সালে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের প্রার্থী আব্দুল মোছাব্বির এবং ১৯৯১ সালে জাতীয় পার্টির খলিলুর রহমান চৌধুরী রফি জয়ী হন।

‎এরপর ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপির শেখ সুজাত মিয়া নির্বাচিত হলেও একই বছরের জুন, ২০০১ ও ২০০৮ সালের নির্বাচনে টানা জয় পান আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা দেওয়ান ফরিদ গাজী।

‎দেওয়ান ফরিদ গাজীর মৃত্যুর পর ২০১১ সালের উপনির্বাচনে বিএনপির শেখ সুজাত মিয়া পুনরায় জয়ী হন। পরে ২০১৪ সালে জাতীয় পার্টির এম. এ. মুনিম চৌধুরী, ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগের গাজী মোহাম্মদ শাহনেওয়াজ এবং সর্বশেষ ২০২৪ সালের নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

‎বর্তমানে আসনটি আওয়ামী লীগের প্রভাববলয়ে থাকলেও এবার সমান তৎপর বিএনপি, জোট ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর। বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মরহুম অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়ার ছেলে ড. রেজা কিবরিয়া, ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী খেলাফত মজলিসের মাওলানা সিরাজুল ইসলাম মিরপুরী এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ সুজাত মিয়া নির্বাচনী মাঠে সরব।

‎বিএনপির প্রার্থী ড. রেজা কিবরিয়া বলেন, ‘বিএনপি আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে জনগণের সেবা করার জন্য। ধানের শীষে ভোট দিয়ে আমার বাবার অসমাপ্ত কাজগুলো শেষ করার সুযোগ দিন।’

‎১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মাওলানা সিরাজুল ইসলাম মিরপুরী বলেন, ‘মানুষ পরিবর্তন চায়, ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র চায়। জনগণ আমাকে রিকশা মার্কায় নির্বাচিত করলে উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা বজায় রাখব।’

‎অন্যদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ সুজাত মিয়া বলেন, ‘দীর্ঘদিন নবীগঞ্জ–বাহুবলের মানুষের পাশে ছিলাম। দুঃসময়ে দলের কর্মীদের পাশে থেকেছি। ইনশাআল্লাহ, জনগণ আমাকে ঘোড়া মার্কায় নির্বাচিত করবেন।’

‎স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে উত্তাপ। তিন প্রার্থীর সক্রিয় উপস্থিতিতে হবিগঞ্জ-১ আসনে ত্রিমুখী লড়াই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।