
মোহাম্মদ জোবায়ের হোসেন,চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধি:
দীর্ঘদিন নদীতে কাঙ্ক্ষিত ইলিশের দেখা মেলেনি। জাল ফেলেও অনেক সময় খালি হাতে ফিরতে হয়েছে জেলেদের। নৌকা, জাল, জ্বালানি ও রসদের খরচ মেটাতে অনেকেই করেছেন ধারদেনা। সেই দেনা পরিশোধের আশায় যখন নদীতে কিছুটা ইলিশ ধরা পড়তে শুরু করেছে, ঠিক তখনই শুরু হচ্ছে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা। এতে নতুন করে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন ভোলার চরফ্যাশনের জেলেরা।
ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন করতে আজ রাত থেকে নদী ও সাগরে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুত, বাজারজাত ও বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হচ্ছে। এ নিষেধাজ্ঞা চলবে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত। ফলে এ সময় নদীতে মাছ ধরতে পারবেন না জেলেরা। এতে চরফ্যাশনের বিভিন্ন জেলেপল্লি ও নদীতীরবর্তী এলাকায় দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।
জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ইলিশ মৌসুমের শুরু থেকে কাঙ্ক্ষিত মাছ না পাওয়ায় অনেকেরই মাছ ধরার খরচ ওঠেনি। কেউ নৌকা মেরামত করেছেন ধার করে, কেউ জাল কিনেছেন বাকিতে। আবার কেউ মাছ ধরার খরচ চালাতে মহাজন ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়েছেন দাদন। মাছ না পাওয়ায় সেই টাকা পরিশোধ করতে পারেননি অনেকেই।
জেলেদের ভাষ্য, নদীতে এখন কিছুটা ইলিশ ধরা পড়তে শুরু করেছে। কিন্তু ঠিক এই সময়েই ২২ দিনের জন্য মাছ ধরা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ফলে একদিকে যেমন আয়-রোজগার বন্ধ থাকবে, অন্যদিকে আগের দেনা পরিশোধের চাপ আরও বাড়বে।
এক জেলে বলেন, ‘এতদিন মাছ পেলাম না। এখন একটু মাছ পড়তে শুরু করেছে। আমরা অনেক দেনা করে নদীতে যাই। এখন মাছ ধরাও বন্ধ। এই সময় সংসার কীভাবে চালাব, বুঝতে পারছি না।’
আরেক জেলে বলেন, ‘ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে নিষেধাজ্ঞা দরকার, এটা আমরা বুঝি। কিন্তু নিষেধাজ্ঞার সময়ে প্রকৃত জেলেদের জন্য পর্যাপ্ত সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করা না হলে পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে পড়তে হবে।’
জেলেদের দাবি, নিষেধাজ্ঞার ২২ দিন সরকার যে খাদ্য সহায়তা দেয়, তা যেন প্রকৃত জেলেদের হাতে পৌঁছে। একই সঙ্গে জেলেদের তালিকা হালনাগাদ করে বাদ পড়া প্রকৃত জেলেদেরও সরকারি সহায়তার আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
জেলেদের মতে, ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে প্রতিবছর নির্ধারিত সময়ে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া প্রয়োজন। তবে নিষেধাজ্ঞার সময়ে জেলেদের জীবন-জীবিকা নিশ্চিত করতে কার্যকর সহায়তা না থাকলে দেনাগ্রস্ত পরিবারগুলোকে চরম সংকটে পড়তে হবে।
এদিকে, নিষেধাজ্ঞা শুরুর আগে নদীতে জাল গুছিয়ে নিচ্ছেন অনেক জেলে। তাদের চোখে এখন একদিকে ইলিশ ধরার আশার আলো, অন্যদিকে ২২ দিন আয় বন্ধ থাকার দুশ্চিন্তা।