
রাজু আহমেদ,নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি।
নীলফামারীর সৈয়দপুরে রেলওয়ের ৫৬ কোটি টাকার মূল্যের জমি দখলের অপতৎপরতা থামছে না।এরই ধারাবাহিকতায় এবার শহরের বিমানবন্দর সড়ক হিসেবে পরিচিত শহীদ ক্যাপ্টেন শামসুল হুদা সড়কের ফুলবাগান এলাকায় রেলওয়ের প্রায় এক একর জমি দখলের চেষ্টা করা হয়েছে।তবে স্থানীয়দের তৎপরতা ও খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ দখলচেষ্টা নস্যাৎ করে দিয়েছে।
রোববার (৪ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে একটি মহল ওই জমি দখলের চেষ্টা করে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।বিষয়টি দেখতে পেয়ে এলাকার সচেতন মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রশাসন,স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সংবাদকর্মীদের অবহিত করেন।খবর পেয়ে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক (ডিএস) সুফি নূর মোহাম্মদ এবং সৈয়দপুরে কর্মরত সিনিয়র সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী (এইএন) তহিদুল ইসলাম রেলওয়ের লোকজন নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।পরে জমিটি দখলের হাত থেকে রক্ষা করা হয়।
রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান,খবর পাওয়ার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে জমি দখলের চেষ্টা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের ভাষ্য,রেলওয়ের এই জমিটি অরক্ষিত অবস্থায় থাকলে ভবিষ্যতে আবারও দখলের চেষ্টা হতে পারে।তাই দ্রুত জমির সীমানা নির্ধারণ করে স্থায়ীভাবে দেয়াল নির্মাণের মাধ্যমে রেলওয়ের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়,সৈয়দপুর পৌরসভার অভ্যন্তরে রেলওয়ের প্রায় ২৫ দশমিক ৭৫ একর জমি রয়েছে।এসব জমির মালিকানা ও ব্যবহার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে রেলওয়ে ও পৌর কর্তৃপক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে।আর এই বিরোধকে কাজে লাগিয়ে সুযোগসন্ধানী একটি মহল রেলওয়ের জমি দখলের সুযোগ নিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, রেলওয়ের জমি দখল করে কোথাও বহুতল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে।আবার কোথাও গড়ে উঠেছে ব্যাংক-বীমা প্রতিষ্ঠান,ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান,হোটেল ও রেস্তোরাঁ।এভাবে রেলওয়ের জমি দখল করে অনেকেই বিপুল অর্থ-সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে স্থানীয়দের দাবি।
শুধু পৌর এলাকার মধ্যেই নয়,সৈয়দপুর পৌরসভার বাইরেও রেলওয়ের শত শত একর জমি রয়েছে।এসব জমির কিছু অংশ কৃষিকাজ,জলাশয় কিংবা বৈধ লিজের আওতায় থাকলেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমি অবৈধ দখলে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি।এতে একদিকে সরকারি সম্পত্তি বেহাত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে,অন্যদিকে রাজস্ব আয় থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে রেলওয়ে।
রেলওয়ের এস্টেট বিভাগ বিভিন্ন সময়ে অবৈধ দখল উচ্ছেদে অভিযান পরিচালনা এবং মামলা করলেও স্থায়ীভাবে দখলমুক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।কোনো কোনো ক্ষেত্রে পৌর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিরোধ বা বাধার কারণে অভিযান মাঝপথে বন্ধ হয়ে যাওয়ার কথাও জানা গেছে।
এদিকে ফুলবাগান এলাকার প্রায় এক একর জমি দখলের চেষ্টা কীভাবে ঠেকানো হলো-এ বিষয়ে জানতে চাইলে সৈয়দপুরে কর্মরত সিনিয়র সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী (এইএন) তহিদুল ইসলাম বলেন,খবর পাওয়ার পর রেলওয়ের লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে জমিটি দখলের চেষ্টা নস্যাৎ করে দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি,রেলওয়ের বিপুল পরিমাণ জমি রক্ষায় শুধু উচ্ছেদ অভিযান নয়, সীমানা নির্ধারণ,সাইনবোর্ড স্থাপন এবং স্থায়ী সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের মাধ্যমে জমিগুলো সংরক্ষণ করা জরুরি।তা না হলে একের পর এক দখলচেষ্টা অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।