
পাবনা প্রতিনিধি:
পাবনার ফরিদপুর থানায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের তৎপরতা বেড়েছে। অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, মাদক ও জুয়া প্রতিরোধ এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত অভিযান ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। এসব কার্যক্রমের কারণে থানার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
বিশেষ করে ফরিদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুরুল হাসান মাসুদ দায়িত্ব গ্রহণের পর অপরাধ দমনে পুলিশি তৎপরতা আরও জোরদার হয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি। নিয়মিত টহল, বিট পুলিশিং, অপরাধীদের ওপর নজরদারি এবং অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ বাড়ছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ফরিদপুরের বিভিন্ন এলাকায় চুরি, ছিনতাই, মাদক ও জুয়ার মতো অপরাধ নিয়ে একসময় মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ছিল। বর্তমানে এসব অপরাধের বিরুদ্ধে পুলিশের তৎপরতা বাড়ায় পরিস্থিতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে বলে তারা জানান।
একজন স্থানীয় ব্যবসায়ী বলেন, “আগে রাতে চলাচলের সময় অনেকটা ভয় কাজ করত। এখন পুলিশের টহল ও নজরদারি চোখে পড়ছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ তৈরি হয়েছে।”
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা আরও জানান, থানায় সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের অভিযোগ ও সমস্যাগুলো গুরুত্ব দিয়ে শোনার চেষ্টা করা হচ্ছে। অপরাধের খবর পাওয়া মাত্র ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কারণে পুলিশের প্রতি মানুষের আস্থাও বাড়ছে।
ফরিদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুরুল হাসান মাসুদ বলেন, “আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং জনগণকে কাঙ্ক্ষিত সেবা দেওয়া আমাদের প্রধান দায়িত্ব। অপরাধ দমনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সঙ্গে পুলিশের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে কাজ করছি। মাদক, জুয়া, চুরি-ছিনতাইসহ সব ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।”
তিনি আরও বলেন, কোনো ব্যক্তি অপরাধে জড়িত থাকলে তার পরিচয় বা প্রভাব বিবেচনা না করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে অপরাধ প্রতিরোধে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
স্থানীয় শিক্ষক, ব্যবসায়ী ও সচেতন নাগরিকদের মতে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের নিয়মিত তৎপরতার পাশাপাশি জনগণের সহযোগিতাও গুরুত্বপূর্ণ। পুলিশ ও জনগণের সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আরও কার্যকর ফল পাওয়া সম্ভব।
সচেতন মহল মনে করছে, নিয়মিত পুলিশি টহল, বিট পুলিশিং, অপরাধের তথ্য সংগ্রহ এবং দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার মতো কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে ফরিদপুরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও স্থিতিশীল হবে।