
এস এ বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট:
ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্তে একদিকে বিজিবির নজরদারি ও টহল জোরদারের বিষয়টি সামনে এসেছে, অন্যদিকে সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে বন্য হাতির উপদ্রব, ফসলের ক্ষয়ক্ষতি ও সামগ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে সীমান্তের সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দিয়ে টহল ও নজরদারি আরও জোরদারের দাবি উঠেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে হালুয়াঘাটসহ ময়মনসিংহের সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বিজিবি। সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশের চেষ্টা ঠেকানো এবং সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে বিজিবির পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়েও নজরদারি বাড়ানোর উদ্যোগের কথা জানা গেছে। এর আগে হালুয়াঘাট সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে বিজিবির টহল বাড়ানো এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়ার খবরও প্রকাশিত হয়েছে। গোবরাকুড়া ও আশপাশের সীমান্ত এলাকায় বিজিবি সদস্যদের নিয়মিত টহল দিতে দেখা গেছে বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে সীমান্তবাসীর উদ্বেগ শুধু নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে সীমাবদ্ধ নয়। সীমান্তবর্তী এলাকায় বন্য হাতির অবাধ বিচরণও স্থানীয় মানুষের জন্য নতুন করে ঝুঁকি তৈরি করছে। গত সেপ্টেম্বর হালুয়াঘাটের গাজীরভিটা ইউনিয়নের আইলাতলী এলাকায় বন্য হাতির দল নেমে ধানখেত নষ্ট করার খবর পাওয়া যায়। এর আগে আগস্টে গাবরাখালী সীমান্ত এলাকায় হাতির পাল তাড়াতে গিয়ে এক ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনাও ঘটে। স্থানীয়দের উদ্ধৃত করে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই এলাকায় ৩০ থেকে ৩৫টি বন্য হাতির একটি পাল ফসলের মাঠে ঢুকে পড়েছিল।
এ অবস্থায় সীমান্তের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ফাতেমা আক্তার। তিনি বলেন, জীবনের দীর্ঘ সময় তিনি সীমান্ত এলাকায় কাটিয়েছেন। তাদের বাড়ি সীমান্ত থেকে প্রায় একশ গজ দূরে হওয়ায় সীমান্তের পরিবেশ, মানুষের জীবনযাপন এবং নিরাপত্তার বিষয়গুলো খুব কাছ থেকে দেখেছেন।
ফাতেমা আক্তারের ভাষ্য, আগে সীমান্তে কোনো সমস্যা দেখা দিলে কিংবা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পরিদর্শন বা অডিটে এলে বিজিবির টহল বাড়তে দেখা যেত। সদস্যরা সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতেন। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে হালুয়াঘাট সীমান্তে আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বিজিবির টহল ও নজরদারি আরও বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
ফাতেমা আক্তার বলেন, “কাউকে আতঙ্কিত করা আমার উদ্দেশ্য নয়। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটার আগেই সীমান্তের নিরাপত্তা জোরদার করা দরকার। সীমান্তের সাধারণ মানুষ যেন নিজেদের নিরাপদ মনে করতে পারে, সেটিই প্রত্যাশা।”
তিনি আরও বলেন, ডিসেম্বরকে ঘিরে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হবে—এমন কোনো নিশ্চিত তথ্য তার কাছে নেই। তবে সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় আগাম প্রস্তুতি থাকা জরুরি।
সীমান্তবর্তী মানুষের জন্য নিরাপত্তার পাশাপাশি বন্য হাতির উপদ্রবও বর্তমানে বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফসলের মাঠে হাতির প্রবেশে কৃষকের ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। রাতের বেলায় হাতির চলাচলের কারণে অনেক পরিবার উদ্বেগের মধ্যে থাকছে বলেও স্থানীয়দের অভিযোগ রয়েছে। ফলে সীমান্ত নিরাপত্তা ও বন্য হাতির ঝুঁকি—দুই বিষয়ই এখন স্থানীয় মানুষের আলোচনায় রয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে সীমান্তের নিরাপত্তা এবং বন্য হাতির ঝুঁকি সমন্বিতভাবে বিবেচনায় নিয়ে প্রশাসন, বিজিবি, বন বিভাগ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সীমান্তবর্তী ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নিয়মিত নজরদারি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বয় বাড়ানোর কথাও বলা হয়েছে।
সীমান্তবর্তী মানুষের নিরাপত্তায় তিন দফা দাবি জানানো হয়েছে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—হালুয়াঘাট সীমান্তে বিজিবির টহল আরও বাড়ানো, সীমান্তের ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নজরদারি জোরদার করা এবং সীমান্তবর্তী সাধারণ মানুষের নিরাপত্তায় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া
সীমান্তবাসীদের মতে, সতর্কতা আতঙ্ক তৈরির জন্য নয়; বরং সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতির অংশ। তাই কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার অপেক্ষায় না থেকে এখন থেকেই সীমান্তের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কার্যকর করার দাবি উঠেছে।
এ বিষয়ে হালুয়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, হালুয়াঘাট সীমান্তে বিজিবির টহল আরও বাড়ানোর বিষয়ে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলবেন।