
রাজু আহমেদ নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি।
নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলা পরিষদ চত্বরে সংসদ সদস্যদের জন্য নির্ধারিত পরিদর্শন কক্ষ উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।উদ্বোধনী আয়োজন সম্পর্কে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য বিলকিস ইসলামকে আগে থেকে অবহিত বা আমন্ত্রণ না জানানোর অভিযোগ উঠেছে।একই সঙ্গে উদ্বোধনী নামফলকে নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ মাওলানা আবদুল মুনতাকিমের নাম থাকা এবং পরিদর্শন কক্ষের চাবি কার কাছে-তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বিলকিস ইসলাম।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সৈয়দপুর উপজেলা পরিষদ চত্বরে এ ঘটনা ঘটে।
বিলকিস ইসলামের অভিযোগ,তাঁর দায়িত্বাধীন এলাকায় সংসদ সদস্যদের জন্য নির্ধারিত পরিদর্শন কক্ষ উদ্বোধন করা হলেও বিষয়টি তাঁকে আগে জানানো হয়নি।পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি উদ্বোধনের প্রস্তুতি দেখতে পান।এ সময় নামফলকে একজন সংসদ সদস্যের নাম থাকায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
বিলকিস ইসলাম বলেন,পরিদর্শন কক্ষ উদ্বোধন হচ্ছে-বিষয়টি আমি নিজেও জানি না।নামফলকে একজনের নাম লেখা হয়েছে।এতে আমি সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে বৈষম্যের শিকার হয়েছি।
তিনি প্রশ্ন করেন,সংসদ সদস্যদের জন্য নির্ধারিত একটি পরিদর্শন কক্ষ উদ্বোধনের মতো আয়োজনে তাঁকে কেন অবহিত করা হলো না।তাঁর মতে,সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে দায়িত্বপ্রাপ্ত জনপ্রতিনিধিকে অবহিত করা প্রশাসনের দায়িত্বের অংশ।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র অনুযায়ী জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে মন্ত্রী-এমপিদের জন্য নির্ধারিত পরিদর্শন কক্ষে ব্যক্তির নামে নামফলক রাখার নির্দেশনা রয়েছে কি না-তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেও আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
বিলকিস ইসলাম বলেন,উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে কোনো আয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের নাম থাকায় আপত্তির কারণ থাকত না।কিন্তু সংসদ সদস্যদের জন্য নির্ধারিত পরিদর্শন কক্ষ উদ্বোধনে একজন সংসদ সদস্যকে না জানিয়ে অন্য একজনের নামফলক স্থাপন করা কেন হলো-সেটিই তাঁর প্রশ্ন।
তিনি আরও জানতে চান,পরিদর্শন কক্ষটি কি শুধু হাফেজ মাওলানা আবদুল মুনতাকিমের জন্য এককভাবে বরাদ্দ করা হয়েছে,নাকি এটি সব সংসদ সদস্যের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
পরিদর্শন কক্ষের চাবি কার কাছে রয়েছে-এ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিলকিস ইসলাম।তাঁর বক্তব্য,উপজেলা প্রশাসনের আওতাধীন একটি কক্ষের চাবি সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে থাকার কথা।একই সঙ্গে কক্ষের আসন বিন্যাস ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যবস্থাপনা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।
বিলকিস ইসলাম বলেন,রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতে পারে;কিন্তু একজন সংসদ সদস্যের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক মর্যাদার প্রতি সম্মান দেখানো সবার দায়িত্ব।
তিনি আরও বলেন,সম্মান দিতে না পারলে রাজনৈতিক চালে কাউকে কোনঠাসা করার অধিকার কারও নেই।
তবে সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহা ফাতেহা তাকমিলা জানিয়েছেন,পরিদর্শন কক্ষ উদ্বোধনের অনুষ্ঠানটি উপজেলা প্রশাসন আয়োজন করার কথা থাকলেও আমরা এবিষয়ে কিছু জানিনা।তবে,সংসদ সদস্যের জন্য নির্ধারিত পরিদর্শন কক্ষ উদ্বোধনের আয়োজন আমাদেরকে না জানিয়ে সংশ্লিষ্টরাই করেছেন।
ইউএনওর এ বক্তব্যের পর কে বা কারা অনুষ্ঠানের উদ্যোগ নিয়েছেন,কী প্রক্রিয়ায় আয়োজন করা হয়েছে এবং নামফলকে একজন সংসদ সদস্যের নাম কীভাবে এলো-এসব বিষয় নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সৈয়দপুর জেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব আবদুল গফুর সরকার বলেন,সংসদ সদস্যদের জন্য নির্ধারিত পরিদর্শন কক্ষের উদ্বোধনী নামফলকে দুই সংসদ সদস্যের নাম থাকা উচিত ছিল।প্রচলিত পরিপত্র ও প্রশাসনিক বিধি অনুসরণ করেই নামফলক প্রস্তুত করা প্রয়োজন ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন পোস্ট ও মন্তব্য ছড়িয়ে পড়েছে।বিলকিস ইসলামের সমর্থকদের অভিযোগ, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত
ভাবে বিভিন্ন রাজনৈতিক পেজ ও ব্যক্তিগত আইডি থেকে মনগড়া ও উসকানিমূলক বক্তব্য প্রচার করে একজন সংসদ সদস্যকে হেয় করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে স্থানীয়দের একাংশ ও বিএনপির নেতাকর্মীরা বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন।তাঁদের বক্তব্য, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও কোনো জনপ্রতিনিধিকে অসম্মান বা হেয় করার সুযোগ নেই।
ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে সৈয়দপুর ও কিশোরগঞ্জের পরিদর্শন কক্ষের ব্যবস্থাপনা নিয়েও স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।সংশ্লিষ্টদের দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার বা রাজনৈতিক বক্তব্যের পরিবর্তে পরিদর্শন কক্ষের বরাদ্দ, নামফলক স্থাপন, উদ্বোধনী আয়োজন এবং চাবি হস্তান্তরের প্রকৃত প্রক্রিয়া প্রশাসনিকভাবে যাচাই করে জনসমক্ষে পরিষ্কার করা হোক।
সূত্রে জানা যায়,স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সার্কুলেশন অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের পরিদর্শন কক্ষ উপজেলা প্রকৌশল বিভাগের মাধ্যমে বাস্তবায়ন ও নাম ফলকসহ উদ্বোধনের যাবতীয় কাজের উল্লেখ আছে।কিন্তু সৈয়দপুর উপজেলার ক্ষেত্রে প্রশাসনকে না জানিয়ে ব্যক্তিগত উদ্যোগে এমন কাজ করায় প্রশ্ন সাধারণ মানুষের।