
সোহান মিয়া, আড়াইহাজার (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি:
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর বিপ্লবী জীবন ও আদর্শ অনুসরণের পাশাপাশি দাওয়াতি কার্যক্রম জোরদারের আহ্বান জানিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল ৯টায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আড়াইহাজার উপজেলা দক্ষিণ শাখার উদ্যোগে উপজেলা সাংগঠনিক কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার আলোচ্য বিষয় ছিল—‘আল্লাহর রাসূল মুহাম্মদ (সা.)-এর বিপ্লবী জীবন’।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি হাফিজুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা জামায়াতের সমাজকল্যাণ সম্পাদক অধ্যাপক ইলিয়াস মোল্লা এবং জেলা জামায়াতের ওলামা বিভাগের সভাপতি মাওলানা মুফতী জাহাঙ্গীর আলম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আড়াইহাজার উপজেলা জামায়াত দক্ষিণ শাখার আমীর মাওলানা হাদিউল ইসলাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাফিজুর রহমান বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আদর্শ নিজের জীবনে ধারণ করা মুসলমানদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। রাসুল (সা.) যেভাবে দাওয়াতের কাজ পরিচালনা করেছেন, মুসলমানদেরও সেভাবে দাওয়াতি কার্যক্রমে এগিয়ে আসতে হবে।
বক্তারা বলেন, রাসুল (সা.)-এর আদর্শ ধারণ করে সাহাবায়ে কেরাম ইসলাম প্রচারের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছিলেন। তাদের অনেকেই জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত হওয়া সত্ত্বেও দাওয়াতের কাজ থেকে বিরত থাকেননি। তাদের অক্লান্ত প্রচেষ্টার কারণেই পরবর্তী প্রজন্মের কাছে ইসলাম পৌঁছে যায়।
তারা আরও বলেন, দ্বীনের দাওয়াতের কাজ থেকে বসে থাকার কোনো সুযোগ নেই। ইসলাম প্রচারের পথে অনেক সাহাবিকে জীবন দিতে হয়েছে। একইভাবে ইসলামের প্রচার ও দ্বীনের কাজ করতে গিয়ে বিভিন্ন সময়ে নেতৃবৃন্দের অনেকে শহীদ হয়েছেন বলেও বক্তারা উল্লেখ করেন। তাই দাওয়াতি কার্যক্রম বন্ধ না করে তা আরও বিস্তৃত করার আহ্বান জানান তারা।
আলোচনা সভায় দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য দেন অতিথিরা। বক্তারা দাবি করেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পর ইসলামপন্থীদের, বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামীকে ‘যুদ্ধাপরাধী’ তকমা দিয়ে দীর্ঘদিন কোণঠাসা করে রাখা হয়েছিল। তাদের ভাষ্য, সে সময় জামায়াতে ইসলামী একটি ক্ষুদ্র সংগঠন ছিল এবং তাদের পক্ষে কথিত দেশদ্রোহী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা সম্ভব ছিল না। একই সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধে অন্যান্য বড় রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকার বিষয়টিও তারা তুলে ধরেন।
বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, বিভিন্ন সময়ে লুটপাট, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, দখলদারি, টেন্ডারবাজি ও নৈরাজ্যের মতো কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের অপকর্ম আড়াল করতেই জামায়াতে ইসলামী ও দলটির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হয়েছে।
তাদের দাবি, জামায়াতে ইসলামী কী চায়, কেন চায় এবং কীভাবে তা বাস্তবায়ন করতে চায়—এসব বিষয় দীর্ঘদিন জনগণের সামনে তুলে ধরার সুযোগ দেওয়া হয়নি। তবে ৫ আগস্টের পর জনগণ জামায়াতে ইসলামী সম্পর্কে তুলনামূলকভাবে স্পষ্ট ধারণা পেয়েছে বলে দাবি করেন তারা।
২০২৬ সালের নির্বাচন প্রসঙ্গে বক্তারা দাবি করেন, নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীকে ঘিরে ব্যাপক জনসমর্থন তৈরি হয়েছিল। তবে তাদের অভিযোগ, ‘ডিপ স্টেট’ নির্বাচনের ফলাফল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামীকে ক্ষমতায় আসতে দেয়নি।
আলোচনা সভায় স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মী ও সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন।