
স্টাফ রিপোর্টার: সুমাইয়া আক্তার
গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-৪ (হাই সিকিউরিটি) থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মৌলিক রেশনের প্রয়োজনের অতিরিক্ত চাল বিক্রির নামে ৪০ বস্তা (প্রায় ১ হাজার কেজি) চাল একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় কারাগারের খাদ্য ব্যবস্থাপনা ও রেশন বিতরণ নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, একটি প্রত্যয়নপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, “কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মৌলিক রেশনের প্রয়োজনের অতিরিক্ত এক হাজার কেজি চাল গাজীপুরের সফিপুর এলাকার সাবিহা ফিফা এন্টারপ্রাইজের নিকট বিক্রি করা হয়েছে।” প্রত্যয়নপত্রটি প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, কারাগারের রেশন গুদামের দায়িত্বে থাকা নাজরুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে মনির হোসেন নামে এক ব্যক্তি চাল বুঝিয়ে দেন। অভিযোগকারীদের দাবি, বন্দিদের খাদ্যের জন্য বরাদ্দকৃত চালই বাইরে বিক্রি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কাশিমপুর কারাগার থেকে বিভিন্ন সময়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে “সাগর স্পেশাল” ব্র্যান্ডের পাইজাম চাল রেশনের নামে সরবরাহ করা হয়ে থাকে। গোপন সূত্রের দাবি, কারাবন্দীদের খাবারের জন্য বরাদ্দকৃত চাল গভীর রাতে বিভিন্ন সময় বাইরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ (ট্রিপল নাইন)-এ ফোনের মাধ্যমে খবর পেয়ে কোনাবাড়ী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে অভিযান চালায়। পরে পুলিশ ৪০ বস্তা চাল জব্দ করে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। জব্দকৃত চালের উৎস এবং তা কারাগারের রেশনসামগ্রী কিনা, সে বিষয়ে তদন্ত চলছে।
এ বিষয়ে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-৪ (হাই সিকিউরিটি)-এর সিনিয়র জেল সুপার আব্দুল আল মামুনের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য না করে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা করার হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট সংবাদকর্মীরা।
ঘটনাটি এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। সচেতন মহল নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে কারাগারের রেশন ব্যবস্থাপনা ও খাদ্য সরবরাহ সংক্রান্ত অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ তদন্তেরও দাবি জানানো হয়েছে।