রিপোর্ট – মুশফিকুর রহমান

চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায় আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পুলিশসহ অন্তত ৫/৬ জন আহত হয়েছে। তাদের মধ্যে অনেককে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সোমবার (১ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে বর্ধিত সভা শুরু হওয়ার পরপরই বিশ্বরোড এলাকায় আসন্ন উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকরা আধিপত্য বিস্তার করার জন্য পাল্টাপাল্টি মিছিল, শোডাউন, পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও দোকানপাট ভাঙচুরের ঘটনা ঘটায়। একপর্যায়ে ঘটনা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিরা জানান, কচুয়া থানার কনস্টেবল রাছেলসহ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী আহত হন। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত চাঁদপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য কার্তিক রায় ও ছাত্রলীগ নেতা সজিব হোসেনকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে, ছাত্রলীগ নেতা শাহাদাত হোসেন ও নাজমুল, যুবলীগ নেতা মানিক ও নাসিমকে কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

এ ছাড়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসেন সবুজ, আওয়ামী লীগ নেতা জহিরুল ইসলাম, তোফায়েল, কাউছার, সাগরসহ অন্যদের স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়।

স্থানীয়রা জানান, সংঘর্ষ চলাকালীন কচুয়ার বিশ্বরোডে উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ইব্রাহীম খলিল বাদলের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান নিউ সৌদিয়া হোটেল ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া কচুয়া মডার্ন হসপিটাল, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মাহবুব আলমের অফিস, সিপনের সেলুন, নজরুলের ভাই ভাই প্লাস্টিক হাউস ও সুধিরের মুদি দোকান ভাঙচুর হয়।

জানা গেছে, চাঁদপুর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুদীপ্ত রায়, কচুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইবনে আল জায়েদ হোসেন, সিনিয়র এএসপি সার্কেল (কচুয়া) আবুল কালাম চৌধুরী ও কচুয়া থানার ওসি মো. মহিউদ্দিন ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি সামাল দিতে চেষ্টা করেন।

কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিউদ্দিন বলেন, সোমবার সকালে আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা শুরু হলে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থীর সমর্থদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। এতে দুই গ্রুপের লোকজন আওয়ামী লীগ অফিস ও দোকানপাট ভাঙচুর করে। পরে তাদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এতে পাঁচ থেকে ছয়জনের মতো আহত হয়। তবে মারাত্মকভাবে হতাহত হয়নি।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুদীপ্ত রায় জানান, কচুয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভাকে কেন্দ্র করে কিছুটা উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ঘটনাস্থলে অবস্থান করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করি।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে