রিপোর্ট – সালমান শুভ

ব্যাটারিচালিত রিকশার পেছনে লাগানো আছে একটি স্টিকার। ফেব্রুয়ারি মাসের স্টিকারে লেখা অমর একুশে ‘ম’, মার্চে স্বাধীনতা দিবস ‘ম’, এপ্রিলে শুভ নববর্ষ ‘ম’, জুনে বিশ্ব পরিবেশ দিবস ‘ম’, সর্বশেষ জুলাই মাসে ছিল পদ্মা সেতু ‘ম’। ব্যাটারিচালিত রিকশার চলাচলের অনুমতি নেই। এর মধ্যে প্রতিটা রিকশার পেছনে থাকা স্টিকার কীসের আবার ওই স্টিকারে ‘ম’ লেখা কেন তা জানতে অনুসন্ধান চালায় SA বাংলা নিউজ  মেলে ‘সরষের মধ্যেই ভূত’ থাকার তথ্য।অনুসন্ধানে জানা যায়, রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত মাসিক চাঁদার ভিত্তিতে চলছে এসব বাহন। এজন্য ‘ম’ লেখা হয়েছে। অর্থাৎ ম-তে মাসিক! চাঁদা নিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশ, ওয়ার্ড কাউন্সিলর, ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও প্রভাবশালীরা। চাঁদা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ‘ম’ সম্বলিত একটি স্টিকার সেঁটে দেওয়া হচ্ছে রিকশায়। সেই স্টিকার দেখলেই কোনো ট্রাফিক পুলিশ সদস্য তা আটকান না। অন্যদিকে, স্টিকার না থাকলে লাগানো হয় রেকার, পাঠিয়ে দেওয়া হয় ডাম্পিং স্টেশনে।রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত মাসিক চাঁদার ভিত্তিতে চলছে এসব বাহন। এজন্য ‘ম’ লেখা হয়েছে। অর্থাৎ ম-তে মাসিক! চাঁদা নিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশ, ওয়ার্ড কাউন্সিলর, ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও প্রভাবশালীরা।

রাজধানীর মুগদা ও মান্ডা এলাকা মিলিয়ে প্রায় পাঁচ হাজারের মতো ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল করে। মাসিক টোকেন মূল্যের হিসাব অনুযায়ী প্রতি রিকশায় সর্বনিম্ন খরচ ১৫০০ টাকা ধরলে মাস শেষে শুধু ওই এলাকা থেকেই ৭০ লাখ ৫০ হাজার টাকা আদায় করছেন প্রভাবশালীরা।

রাজধানীর মূল সড়কের চেয়ে অলিগলিতে ব্যাটারিচালিত রিকশার চলাচল বেশি। সুযোগ পেলে মূল সড়কেও দাপিয়ে বেড়ায় এসব রিকশা। রাজধানীর খিলগাঁও, মান্ডা, বাসাবো, মানিকনগর, রামপুরা, বাড্ডা, সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ী, কদমতলী, সবুজবাগ, শ্যামপুর, ডেমরা, মোহাম্মদপুর, বছিলা, উত্তরা, ভাটারা, দক্ষিণখান, উত্তরখান, ময়নারটেক, মিরপুর, পল্লবী এলাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশার সংখ্যা বেশি।

টাকাটা কার কার পকেটে যাবে— জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রতিটি এলাকায় নেতারা (ক্ষমতাসীন দলের নেতারা) তাদের কর্মী বা লোক নির্ধারণ করে দেন। তারাই টাকা তোলেন। ওই টাকা দলীয় নেতা, স্থানীয় কাউন্সিলর, থানা-পুলিশ ও লাইন ম্যান সবার পকেটে যায়। আমরা যারা আছি তারা রাস্তাঘাট দেখাশোনা করি। কোনো সমস্যা হলে সমাধান করি। রিকশায় স্টিকার আছে কি না দেখি, না থাকলে সেই রিকশা চলতে দেওয়া হয় না। প্রতিটি গ্যারেজে আমরা যাই, খোঁজখবর নিই। কোন কোন রিকশায় স্টিকার আছে, আর কোনটিতে নেই— দেখার জন্য তো লোক প্রয়োজন। তাদের বেতন দিতে হয়। সবই আসে টোকেন/স্টিকারের টাকা থেকে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে